দেখা-না-দেখায় মেশা

আজ গেছিলাম তাঁর সঙ্গে একবার দেখা করতে। বিকেলবেলা। প্রবল গরম, শরীর ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। বাড়ির দরজায় গিয়ে দেখি, অনেকের ভিড়। সে ভিড় নড়ছেই না বলতে গেলে। সরু সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় তাঁর ঘরের সামনে যাওয়ার পথটি একরকম অবরুদ্ধ। সেদিকে হতাশ চোখে তাকিয়ে আছি দেখে তাঁর এক পরিচারক একটু বিরক্তির সঙ্গেই বললেন, জুতোটা ওখানে খুলে দাঁড়িয়ে যান না এই ভিড়েই। 

শরীর এত অবসন্ন, মনে হল পারব না এতটা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে। কাঁধে ভারী ব্যাগ, ক্লিন্ন শরীর। শ্লথ গতিতে সামনে ভিড় এগোচ্ছে, কিন্তু ভিড় ঠেলে ক্ষণিকের জন্য তাঁর কাছে যাওয়ার বাসনা আমার কখনোই হয় না। নির্জনে, সময় নিয়ে গিয়ে একটু বসি; শুধু বসিই – তাইই সই, কিন্তু নির্জনে যেতে ইচ্ছে করে। আজ সে সব হবে না। নীচ থেকেই মনে মনে বললাম – আজ এত অপেক্ষা করে দেখা করতে পারব না মনে হয়। যদি বা অপেক্ষা করি, শেষকালে এমন অবসন্ন এক মন নিয়ে তোমার কাছে পৌঁছব ... সে তোমার যোগ্য নয়। রাগ কোরো না গো, আজ আসি।

বেরিয়ে আসি তাঁর বাড়ি থেকে। পথ দিয়ে হাঁটি। দুঃখ কুরে কুরে খায় মনকে – আজই কেন এত মানুষকে আসতে হল? আজই কেন দেখা না করে ফিরে এলাম? আজ দেখা হওয়া বড় দরকার ছিল, দুটো কথা বলার ছিল। অথচ আজকেই ...?

যাক। এখনও সময় হয় নি হয়তো।

Comments