শিবের ভক্ত কে?
এই দিনে রামেশ্বর মন্দিরে স্বামীজী কিছু কথা বলেন। তার মূল সূত্রগুলি হল –
১। ধর্মের প্রকাশ বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানে নয়, অকপট অনুরাগে।
২। শুদ্ধ চিত্তে মানস পূজাই ভক্তির প্রধান কথা।
৩। তীর্থ কাকে বলে? – পবিত্র স্থানকে তীর্থ বলে। পবিত্র মনের মানুষ যে স্থানে বাস করেন, তাইই তীর্থ। অসংখ্য মন্দির ইত্যাদি থাকলেও যদি সেই স্থানে অসততার চর্চা হয়, তা কোনোদিনই তীর্থ হয়ে উঠতে পারবে না।
৪। সমস্ত উপাসনার সার – দরিদ্র, দুর্বল, পীড়িতের মধ্যে শিবকে দর্শন করা, ও তাদের সেবা করার মধ্য দিয়ে শিবের উপাসনা করা।
৫। যিনি কেবল মন্দিরেই তাঁর ইষ্টকে দর্শন করেন, তিনি অধ্যাত্মপথে নিতান্তই নবীন ও কাঁচা।
৬। শিবভক্তির সবচেয়ে বড় প্রমাণ মুখে মুখে শিবের গুণগান গাওয়া নয়, হাতেকলমে শিবের কাজ করা। শিবের কাজ কী? শিবের সন্তানদের (অর্থাৎ সব জীবের) সেবা করা। শিব সকলের হৃদয়ের বিরাজমান।
৭। এই কারণে, পরের সেবা শুভ কর্ম; স্বার্থপরতা সবচেয়ে বড় পাপ।
৮। কেউ ধার্মিক না অধার্মিক, তা বোঝার সবচেয়ে বড় অ্যাসিড টেস্ট হল – সে কতদূর নিঃস্বার্থ, তা দেখা। যে বেশি নিঃস্বার্থ, সে-ই বেশি ধার্মিক।
৯। নিঃস্বার্থ, পরোপকারী কোনও মানুষ যদি শাস্ত্র-শিব এসব বিষয়ে কিছুই না জানে, তবু সে শিবের প্রিয় – কারণ সে সকলের মধ্যে শিবকে দেখে তাঁর উপাসনা করে।
১০। যার সেই দেখার চোখ নেই, সে হাজার তীর্থ ঘুরুক বা বাঘছাল পরে ভস্ম মেখে বসে থাকুক, শিবের প্রিয় সে কোনোদিনই হয়ে উঠতে পারবে না।
==============
আজ, শিবরাত্রিতে এই সূত্রগুলির অনুধ্যান করা যাক।
Comments
Post a Comment