আলোর উপাসক
আলোর উপাসক যাঁরা, অনন্তের পূজারী যাঁরা, ঈশ্বর যাঁদের কাছে নির্বিকল্প, তাঁদের সেই পথেই ফিরতে হবে। নান্যঃ পন্থা বিদ্যতে অয়নায়।
সঙ্কীর্ণতার মোকাবিলা সঙ্কীর্ণতা দিয়ে করলে, হীনতার বিরুদ্ধে আরও বেশি হীন হয়ে উঠলে, তা দেখতে বেশ যুক্তিসঙ্গত হয় বটে। মনে হয়, সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হচ্ছে।
কিন্তু দুঃখের কথা এটাই যে সেই লড়াইতে আলোর উপাসকেরা পরাজিতই হবেন। সঙ্কীর্ণ, বিভেদকামী মানুষেরা সেই গুণগুলির আস্ফালনেই আনন্দ পান। বিভেদ, অত্যাচার, কটু কথা, দুর্নীতি, সবই তাঁদের সন্তোষ দেয়, আনন্দিত করে। যাতে আনন্দ, তাতেই বিশ্বাস, তাতেই সাফল্য।
কিন্তু অনন্তের পূজারী যিনি, বৈষম্যের গণ্ডীতে নিজেকে বেঁধে তিনি যুদ্ধ খানিক করতে পারেন বটে, কিন্তু সেই অবস্থান বা কর্মপ্রণালী তাঁকে না দেয় কোনও আনন্দ, না কোনও বিশ্বাস, না কোনও সাফল্য।
উদ্দেশ্যহীন ভাবে কিছুটা লড়াইয়ের শেষে তাঁর মন, প্রাণ ক্লান্ত হয়ে হার মানে। অন্ধকারেরই জয় হয়।
তাই আলোর পথিক যাঁরা, তাঁদের আলোর পথেই চলতে হবে শেষ অবধি। পরিস্থিতিভেদে তাঁদের উচ্চ অবস্থান থেকে নিম্ন অবস্থানে আসতে হবে প্রয়োজনে, কিন্তু আলোকময় ভাবনাকে কখনোই অন্ধকারময় ভাবনায় বদলানো যাবে না।
আলোর কথা সময়ে সময়ে উপদেশমূলক শোনায়। পুনরাবৃত্তিও মনে হতে পারে। অস্থির, অধৈর্য্য সময়ে শুভ ও শান্ত-র পুনরাবৃত্তি ভালোমানুষকেও একটু বিরক্ত করে ঠিকই, কারণ যে ধ্বংসাত্মক এড্রেনালিন তাঁর শরীরে বইছে অন্ধকারের প্রভাবে, আলো তাকে প্রশমিত করে বারবার।
আলো সত্যদর্শী করতে চায়, পক্ষপাতদুষ্ট নয়।
প্রাচীনকালে এরিস্টটল একেই হয়তো বলতেন 'ক্যাথারসিস' – উপশম। আর যাঁরা সেই উপশম নিয়ে আসেন, তাঁরা 'ক্যাথারটেস'।
সেবা, শুশ্রূষা ভিন্ন আর পথ নেই। প্রতিটি দেশের জন্য, প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য, প্রতিটি শ্রেণীর জন্য। অভাব প্রশমিত হলে, ভাব হবে।
In a world full of hatred, be a healer.
Comments
Post a Comment