কৃপা গিয়ে ফিরে আসে
মায়ের "কৃপা গিয়ে ফিরে আসে" কথাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কদিন আগেই বিশ্বজিৎ রায় তাঁর একটি লেখায় 'অধিকারী ভেদ' বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সে লেখায় খুব সুন্দর ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্বজিৎ দা – "এ কিন্তু মতামত প্রদানের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার কল-কৌশল নয়, এ হল কোনো বিষয়ে কথা বলার আগে সে-কথা বলার জন্য নিজেকে অনুশীলনের মাধ্যমে উপযুক্ত করে তোলা।"
কথা বলাই শুধু নয়, গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও এই একই কথা আমার মনে হয়। কিছু চাইলে, প্রার্থনা করলেই তো শুধু হয় না। পেলে, তাকে ধারণ করার যোগ্যও হয়ে উঠতে হয়, অধিকারী হতে হয়।
কৃপার মতো বিষয় সরিয়ে রেখে ছোট ছোট ক্ষেত্রে দেখা গেলেও, এটি লক্ষ্য করা যাবে। সাবধানী শিক্ষক ছাত্র বা ছাত্রীর প্রশংসা করতে গিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, "ভালো তো বললাম, এর ভার বইতে পারবে তো?" অর্থাৎ, প্রশংসা গ্রহণ করে তাকে আত্মোন্নতির কাজে লাগানোর যোগ্য তো তুমি? নাকি আত্মহারা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? আত্মহারা হওয়ার মতো মানুষের কাছে তাই বহু দানই অপাত্রে দান।
কৃপাও তেমনি। সে তো প্রকৃতিগত ভাবেই ঈশ্বরের বা শক্তির 'ট্রাম্প কার্ড'। তাকে নিজের জীবনে চাইলে, খেলার একটি বিশেষ স্তরে উন্নীত হয়ে তবেই প্রার্থনা করা যায়। আগে নিজে সচেষ্ট হও, উদ্যোগী হও, শ্রম করো। ধীরে ধীরে আধার তৈরি করো। আধেয় ঠিকই আসবে।
অনন্ত শক্তির কাছে আমাদের বহু প্রার্থনা অপূর্ণ থেকে যায়, শেষে অবিশ্বাসে পরিণত হয়, কারণ পাত্র ছাড়াই মাধুকরী সংগ্রহে বেরিয়ে পড়ি অনেক সময়। তাই না?
Comments
Post a Comment