তপ্ত জীবন
কথামৃতের শুরু হয় শ্রীমদ্ভাগবতের একটি শ্লোক দিয়ে।
তব কথামৃতম্ তপ্তজীবনম্, কবিভিরীড়িতং কল্মষাপহম।
শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততম্ , ভুবি গৃণন্তি যে ভুরিদা জনা্ঃ।
এর মধ্যে আমায় সবচেয়ে টানে কোন কথাটি, জানেন?
তপ্তজীবনম।
কেন? না, আমাদের জীবন আঘাত, আশাভঙ্গ, স্বপ্নভঙ্গে জর্জরিত। তাই সে তপ্ত।
তপ্ত মানে কেবল গরম নয়। গনগনে আঁচে বসিয়ে রাখা তাওয়া যেমন গরম হয়ে থাকে, তেমন। সামান্য জলের ছিটেও সেখানে ভুশ করে বাষ্প হয়ে মিলিয়ে যায়। আর্দ্রতা, কোমলতা বলে কিছু নেই সেখানে। আছে কেবল তেতে পুড়ে যাওয়া গরম। সেই তাওয়ায় সামান্য হাত লেগে গেলে যেমন পুড়ে যায়, জ্বালায় যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠি আমরা, জীবন সেরকম। তপ্ত।
জীবনের এই তপ্ত ভাব যখন অক্ষরে অক্ষরে অনুভূত হয়, জীবন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন মহাত্মাদের কথা অমৃতসমান হয়ে ওঠে।
তখন গিয়ে সেই কথা শুনতে ইচ্ছে করে। সেই কথার সঙ্গে বাস করতে ইচ্ছে করে।
Comments
Post a Comment