কোথায় পাবো তাঁরে


এমনিতে ঘরে কেউ এলে, তার আয়োজন কি কম ঝক্কির? সব সাজিয়ে তুলতে হয় পরিপাটি, ধাপে ধাপে। বিছানার চাদর টানটান করে দিতে হয়, জল ভরে রাখতে হয় পাত্রে। মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা থাকলে, ভালোই। নিকনো উঠোন, তকতকে ঘরদোর। তবে গিয়ে আপ্যায়নের জমি বোনা হয়। 

কিন্তু তিনি এলে, এ-সব ব্যতীতই আসেন প্রতিবার। শুধু এটুকু বললেও ভুল বলা হবে। তিনি আসেন একেবারে অনভিপ্রেত মুহূর্তে। তাঁর জন্য আপ্যায়নের ডালি সাজিয়ে বেলা কেটে যায়। দিন, রাত ঘুরে যায়। তিনি আসেন না। অথচ, যখন সব এলোমেলো, ছিন্নভিন্ন; মনের ঘর যখন শ্রীহীন, মৃতপ্রায়, কর্কশ, তখনই তিনি আসেন। 

এসে, ছেঁড়াখোঁড়া, তালিতাপ্পিমারা শতরঞ্চিতেই বসেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। আমাদের কালি পড়া চোখের কোল ছুঁয়ে অশ্রু অনুভব করেন। আমরা যখন তাঁর দিকে তাকাই, তাঁর চোখে কেবলই ভালোবাসা। আমার শ্রীহীন ঘরের প্রতি তাঁর বিরাগ নেই, আয়জনের অভাবে বিরক্তি নেই। 

বুদ্ধের অপার করুণা ঘন হয়ে জমে আছে তাঁর ভ্রূ-যুগলে। একটিই প্রশ্ন করেন তিনি, "তুমি ঠিক ঠিক কাঙাল হয়েছ তো? অনুভব করেছ তো জগতের অসারতা? শর্ত রেখে ভালোবাসা চাও নি তো?" থুতনি ছুঁয়ে বলেন, "এই তো আমি। এসো।"

তখন, অন্ধকার, অক্ষম, শীতজর্জর ঘরে তাঁকে কোনও দূরাগত অবতার নয়, সবচেয়ে কাছের বন্ধু বলে বোধ হয়। তাঁকে নিজের মতোই লাগে -- আমার মধ্যেকার আলোময় আমিটুকু। 

Comments