স্বামী বিবেকানন্দের এক রুদ্ধশ্বাস সাক্ষাৎকার

প্রশ্নঃ স্বামীজী, আপনাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম আপনার পুণ্য জন্মতিথির প্রাক্কালে। কাজের কথার মানুষ আপনি, তাই সময় নষ্ট না করে সরাসরি প্রসঙ্গেই চলে যাব। যে দেশকে আপনি প্রাণাধিক ভালবেসেছেন, সেই ভারতবর্ষকে নিয়েই কিছু প্রশ্ন করতে চাই। এই দেশ, দেশের মানুষ বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে মাঝেমাঝে।

স্বামীজীঃ শ্রীশ্রী ঠাকুরের ও মা-ঠাকুরানীর আশীর্বাদ তোমাদের উপর বর্ষিত হোক। বেশ তো, ভারত নিয়েই প্রশ্ন করো। কৌতূহল নিরসনের চেষ্টা করবো যথাসাধ্য।

প্রশ্নঃ স্বামীজী, আপনি যে সময়ে চর্মচক্ষে দেখেছেন ভারতকে, তা থেকে আজকের ভারত অনেকটা ভিন্ন বলে আমাদের মনে হয়। তবু, এখনকার ভারতের দিকে তাকালে আপনার কি মনে হয় যে আগেকার আর এখনকার ভারত – দুয়ের মধ্যেই কিছু চিহ্ন আছে, যা শাশ্বত, চিরন্তন হয়ে থেকেই যাবে এই দেশে?

স্বামীজীঃ যদি এই পৃথিবীতে এমন কোনও দেশ থাকে, যাকে 'পুণ্যভূমি' নামে বিশেষিত করা যেতে পারে, যদি এমন কোনও স্থান থাকে যেখানে মানুষের ভেতর ক্ষমা, দয়া, পবিত্রতা, শান্তভাব প্রভৃতি সদগুণের বিকাশ সবচেয়ে অধিক পরিমাণে হয়েছে, যদি এমন কোনও দেশ থাকে, যেখানে সর্বাপেক্ষা অধিক আধ্যাত্মিকতা ও অন্তর্দৃষ্টির বিকাশ হয়েছে, তবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি সে আমাদের মাতৃভূমি-এই ভারতবর্ষ।

প্রশ্নঃ আপনার নানা বক্তৃতায় ভারতে আধ্যাত্মিকতার বিকাশ ও তার প্রবহমান ধারার কথা জানতে পারি। কিন্তু সব যুগেই কি আধ্যাত্মিকতার প্রভাব ও গুরুত্ব একইরকম ছিল ভারতে?

স্বামীজীঃ ভারতের ইতিহাসে কেউ এমন একটি যুগ দেখিয়ে দাও দেখি, যে- যুগে সমগ্র জগৎকে আধ্যাত্মিকতা দ্বারা পরিচালিত করবার মতো মহাত্মার অভাব ছিল। 

প্রশ্নঃ ভাবগত দিক দিয়ে ভারত আধ্যাত্মিক, বুঝলাম। কিন্তু কার্যপ্রণালী?

স্বামীজীঃ ভারতের কার্যপ্রণালী আধ্যাত্মিক – সে কাজ রণবাদ্য বা সেনাবাহিনীর অভিযানের দ্বারা হতে পারে না। ভারতের প্রভাব চিরকাল পৃথিবীতে নিঃশব্দ শিশিরপাতের মতো সকলের অলক্ষ্যে সঞ্চারিত হয়েছে অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ফুলগুলি ফুটিয়ে তুলেছে।

প্রশ্নঃ এই প্রভাব কি কেবল আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাহলে? না অন্যান্য ক্ষেত্রেও …?

স্বামীজীঃ বললাম যে, কার্যপ্রণালী। নিজেরাই এবার ভেবে দেখো। প্রথাগত ধর্ম আর আধ্যাত্মিক জগতের কথা তো বাদই দিলাম না হয়। এখন পাশ্চাত্যের রণহুঙ্কার শুনতে শুনতে, আরও বেশি করে বিশ্বায়নের পর এই ধারণা কোথাও আমাদের মধ্যে শিকড় গেড়েছে যে আমরা আমাদের ইতিহাসে পশ্চিমের দেশগুলির চেয়ে প্রায় সবকিছুতেই পিছিয়ে ছিলাম, ও আছি। এই কলোনিয়াল মানসিকতা যত সমস্যার মূল। বিজ্ঞান নিয়ে এত কথা হয় সারা বিশ্বে। ভারতে কি বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে নি আগে? বিজ্ঞানমনস্ক মনিষী, চিকিৎসক, এঁরা কি আমাদের দেশে ছিলেন না? গণিতের কথা বলো – বীজগণিত, জ্যামিতি, মিশ্রগণিত – সবগুলোরই ব্যাপক চর্চা হয়েছে ভারতবর্ষে, কত কত বছর আগে। 
দর্শনের ক্ষেত্রেও আমাদের ইতিহাস সুপ্রসিদ্ধ; নয় কি? বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক শোপেনহাওয়ার অবধি এ-কথা স্বীকার করেছেন। সঙ্গীতে ভারত জগৎকে দিয়েছে প্রধান সাতটা স্বর এবং সুরের তিনটি গ্রাম সহ স্বরলিপি-প্রণালী। সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমাদের মহাকাব্য, কাব্য ও নাটক অন্য যে- কোনও ভাষার শ্রেষ্ঠ রচনার সমান। জার্মানির শ্রেষ্ঠ কবি আমাদের শকুন্তলা নাটক সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেছেন যে, এতে 'স্বর্গ ও পৃথিবী সম্মিলিত।' শিল্পকলার ক্ষেত্রে ভারতই প্রথম তুলো ও লাল রং উৎপাদন করে, এবং সবরকম অলঙ্কার তৈরিতেও বিশেষ দক্ষতা দেখায়। চিনি ভারতেই প্রথম তৈরি হয়েছিল। ইংরেজি 'সুগার' কথাটি সংস্কৃত শর্করা থেকে তৈরি। কাজেই, পাশ্চাত্যের ‘প্রভু’রা যতই বলুন না কেন যে ভারতের ইতিহাস অন্ধকার, একবার চোখ মেলে সেই ইতিহাসের দিকে তাকালেই বোঝা যায় ভারত কী ছিল – শুধু আধ্যাত্মিকতা বা ধর্মে নয়, জাগতিক নানা ক্ষেত্রেও। 

প্রশ্নঃ আপনার কাছে এ দেশের প্রাচীন ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ সে ক্ষেত্রে …? 

স্বামীজীঃ তোমার চরিত্র গঠনে তোমার অতীতের ভূমিকা থাকে না? ভারতের যে অতীত স্বতন্ত্র ও উজ্জ্বল, সে বর্তমানের কিছু দোষত্রুটির কারণে বিবর্ণ হতে যাবে কেন? ক্ষণিকের খারাপের জন্য যা কিছু ভালো – তাকে অস্বীকার করবো কেন? দেশকে কোন কোন কারণে ভালোবাসা যেতে পারে – সেটা শেখাও দেখি। যখন আমি আমাদের দেশের প্রাচীন ইতিহাস পর্যালোচনা করি, তখন সমগ্র পৃথিবীতে এমন আর একটা দেশ দেখতে পাই না, যে-দেশ মানব- মনের উন্নতির জন্য এত কাজ করেছে। এই কারণেই আমি আমার জাতিকে কোনও রকম নিন্দা করি না বা গালাগাল করি না। আমি বলি: যা করেছ, বেশ হয়েছে, আরও ভাল করবার চেষ্টা করো।

প্রশ্নঃ কিন্তু দেশের প্রাচীন ইতিহাসের পরিপন্থী অনেক প্রগতিশীল মানুষই আছেন এই দেশে। তাঁরাও নিজেদের দেশের হিতের কথা ভাবছেন একরকম ভাবে; অতীতের ইতিহাসকে একেবারে নির্মূল করে নতুন করে শুরু করতে চান তাঁরা এক এক সময়ে। তাঁদের উদ্দেশ্যে আপনি কী বলবেন?

স্বামীজীঃ এটুকুই বলব যে – কিছু নষ্ট কোরো না। ধ্বংসবাদী সংস্কারকরা জগতের কোনও উপকারই করতে পারে না। কোনও কিছু একেবারে ভেঙো না, একেবারে ধূলিসাৎ কোরো না, বরং গঠন করো। যদি পার সাহায্য করো, যদি সাহায্য করতে না পার, অনিষ্ট কোরো না।

প্রশ্নঃ অর্থাৎ একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন নেই দেশের উন্নতিকল্পে?

স্বামীজীঃ কালের নিয়মে যা ঘটে এসেছে, তাকে পুরো মুছে আমি আবার সাজাতে পারি – এই ভাবনাও খুব অপরিণত অহংবোধ থেকে আসে। এই বিরাট বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমাদের কতটুকু ক্ষমতা? তুমি আমি কী করতে পারি? তুমি কি মনে কর, তুমি একটা শিশুকেও কিছু শেখাতে পার-পার না। শিশু নিজেই শিক্ষা লাভ করে। তাই পণ্ডশ্রম না করে, যে যেখানে আছে, তাকে সেখান থেকে উপরে তুলবার চেষ্টা করো।... 

প্রশ্নঃ বর্তমানে বিশ্বায়নের ফলে দেশে ধনসম্পদের প্রবাহ ঘটেছে বটে, বিত্ত এসেছে। কিন্তু বিত্তবান ও দরিদ্রদের মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়ে গেছে ক্রমশ। আজও শ্রমজীবী গরীব মানুষেরাই এ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তবু তাঁরা আজও তিমিরে। দেশের রাজনীতিও মুষ্টিমেয় বিত্তবানকে কেন্দ্র করে, শোষিত দরিদ্রকে আরও শোষণ করার যন্ত্র হয়ে ওঠে।

স্বামীজীঃ এ শুধু আজ বলে নয়, দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই বৈষম্য আগেও ছিল; সে সব দেখেই বলতে বাধ্য হয়েছিলাম যে আমাদের শাস্ত্রের সাম্যবাদ কাজে প্রতিফলিত হয় না। ভেদবুদ্ধিতে ভরে থাকে আমাদের কাজকর্ম। এই দরিদ্র শ্রমজীবীরাই ভারতের প্রাণকেন্দ্র, সে তুমি যতই ব্র্যান্ডেড জিনিসপত্র কেনো আর শপিং মলে যাও, আর যা-ই করো। শ্রমজীবীদের নীরব, নিরলস পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নানা বিদেশি জাতি ভারতে এসে ক্রমান্বয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে, ঐশ্বর্য লাভ করেছে। অথচ যাঁদের মরণপণ শ্রমে এসব সম্ভব হল, তাঁদের কথা কে ভাবে! আমরা গর্ব করে বলি – আমাদের পিতৃপুরুষ দুখানা দর্শন লিখেছেন, দশখানা কাব্য বানিয়েছেন, দশটা মন্দির করেছেন। আমাদের সেই গুণগানের চোটে আকাশ ফাটছে, আর যাদের রক্তস্রোতে মনুষ্যজাতির যা কিছু উন্নতি - তাদের জয়গান কে করে? সেদিকে কেউ দেখে না, কেউ একটা বাহবা দেয় না, প্রায় সকলেই তাঁদের ঘৃণা করে।

প্রশ্নঃ কিন্তু সত্যিই যদি প্রবাদপ্রতিম বীরত্বের কথা বলেন, সেখানে শ্রমজীবীদের অবদান কি সেভাবে দেখা যায়?

স্বামীজীঃ তোমাদের কাছে বীরত্ব মানে কি যুদ্ধের বেশভূষা পরে বীর হওয়া? আমাদের গরীবরা ঘরদুয়ারে দিনরাত যে মুখ বুজে কর্তব্য করে যাচ্ছে, তাতে কি বীরত্ব নাই? বড় কাজ হাতে এলে অনেকেই বীর হয়, দশ হাজার লোকের বাহবার সামনে কাপুরুষও অক্লেশে প্রাণ দেয়, ঘোর স্বার্থপরও নিষ্কাম হয়; কিন্তু অতি ক্ষুদ্র কার্যে সকলের অজান্তেও যিনি সেই নিঃস্বার্থতা, কর্তব্যপরায়ণতা দেখান, তিনিই ধন্য – তাঁরা ভারতের চিরপদদলিত শ্রমজীবী! তাঁদের প্রণাম করি।

প্রশ্নঃ স্বাধীনতার সময়কার এত স্বপ্ন নিয়েও আজ যে ভারত নানা দিকে পীড়িত, অসহিষ্ণু, বৈষম্যে ভরা – তার কারণ কি সাধারণ মানুষের এই অবমাননা?

স্বামীজীঃ আমার তো তাইই মনে হয়। দেশের জনসাধারণকে অবহেলা করাই আমাদের প্রবল জাতীয় পাপ এবং তাই হল আমাদের অবনতির অন্যতম কারণ। যতদিন না ভারতের সর্বসাধারণ ভালভাবে শিক্ষিত হচ্ছে, ভালভাবে খেতে পাচ্ছে, অভিজাত লোকেরা যতদিন না তাদের ভালভাবে যত্ন নিচ্ছে, ততদিন যতই রাজনৈতিক আন্দোলন করা হোক না কেন, কিছুতেই কিছু হবে না। ভারতকে যদি পুনরুদ্ধার করতে হয়, অনাথ, দরিদ্র, মূর্খ, চাষাভুষোর জন্য – আগে তাদের জন্য করো। তারপর যদি সময় থাকে, তো ভদ্রলোকেদের জন্য।

প্রশ্ন: দরিদ্রদের যে সমস্যা, তা থেকে পরিত্রাণ কীভাবে সম্ভব?

স্বামীজী: ভারতের দরিদ্র, ভারতের পতিত, ভারতের পাপীদের সাহায্যকারী কোনও বন্ধু নেই। চিন্তাশীল ব্যক্তিরা কিছুদিন থেকে সমাজের এই দুরবস্থা বুঝেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁরা অনেকেই ধর্মের ঘাড়ে এই দোষ চাপিয়ে হাত ঝেড়ে ফেলতে চান দেখি। তাঁরা মনে করেন ধর্মের বিনাশসাধনই উন্নতির একমাত্র উপায়। কিন্তু এটা ভেবে দেখেছো কি, সত্যিকারের বৈদান্তিক ধর্ম তো শেখাচ্ছেই জগতে যত প্রাণী আছে, সকলেই তোমারই আত্মার বহুরূপ মাত্র। ভারতীয় সমাজের এই দুরবস্থার কারণ এই তত্ত্বকে কাজে পরিণত না করা, সহানুভূতির অভাব, হৃদয়ের অভাব।

প্রশ্ন: তবু আমরা ইতিবাচক ভাবে ব্যবহার করতে পারছি না কেন ধর্মকে? এখন তো অনেকের কাছেই ধর্ম much-abused একটা শব্দ!

স্বামীজী: কারণ আমরা ধর্মের বাইরের খোলটা নিয়েই সময় নষ্ট করে মরছি। সমাজের এই অবস্থাকে দূর করতে হবে ধর্মকে নষ্ট করে নয়। বেদান্তধর্মের মহান শিক্ষাকে অনুসরণ করে, এবং তার সঙ্গে হিন্দুধর্মের স্বাভাবিক পরিণতি যে বৌদ্ধধর্ম, তার অদ্ভুত সহানুভূতির ভাবকে যুক্ত করে।

প্রশ্ন: এত সহজ উপায়, অথচ কারো চোখে পড়ে নি?

স্বামীজী: আধুনিক সংস্কারকরা প্রথমেই ভারতের ধর্মকে নষ্ট না করে সংস্কারের আর কোনও উপায় দেখতে পান না। তাঁরা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বিফল হয়েছেন। এর কারণ কী? কারণ, তাঁদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক লোকই তাঁদের নিজের ধর্ম ভালভাবে পড়েছেন বা আলোচনা করেছেন। আর তাঁদের একজনও 'সকল ধর্মের প্রসূতি'কে বুঝবার জন্য যে সাধনার প্রয়োজন, সেই সাধনার মধ্য দিয়ে যাননি। আমি দাবি করছি যে, সমাজের উন্নতির জন্য ধর্মকে নষ্ট করবার কোনও প্রয়োজন নেই এবং ধর্মের জন্যই যে সমাজের এই অবস্থা তা নয়। বরং ধর্মকে সামাজিক ব্যাপারে যেভাবে কাজে লাগানো উচিত ছিল, তা হয়নি বলেই সমাজের এই অবস্থা। 

প্রশ্ন: বর্তমান বা ভবিষ্যৎ সমাজকে বদলাতে গেলে এত অতীতে ফিরে যেতে হবে?

স্বামীজী: অতীতের গর্ভেই ভবিষ্যতের জন্ম। অতএব যতদূর পার, অতীতের দিকে তাকাও, পেছনে অনন্ত নির্ঝরিণী প্রবাহিত, প্রাণভরে আকণ্ঠ তার জল পান করো, তারপর সম্মুখ-প্রসারিত দৃষ্টি নিয়ে সম্মুখে অগ্রসর হও, এবং ভারত প্রাচীনকালে যত উঁচু গৌরবশিখরে আরূঢ় ছিল, তাকে তার চেয়েও আরও উঁচু উজ্জ্বল মহৎ ও মহিমান্বিত করবার চেষ্টা করো। আমাদের প্রথমে জানতে হবে, আমরা কী উপাদানে গঠিত, কোন রক্ত আমাদের ধমনীতে বইছে। তারপর... আগে যা ছিল তার চেয়েও মহৎ নতুন ভারত গঠন করতে হবে।

প্রশ্ন: কিন্তু অতীতমুখী হওয়াকে এত বিদ্রূপের চোখে দেখেন কেন প্রগতিশীলরা...

স্বামীজী: জানি। যারা অনবরত অতীতের দিকে তাকায়, আজকাল প্রত্যেকেই তাদের নিন্দা করে থাকে। বলা হয়, এত বেশি অতীতের দিকে তাকানোই ভারতবর্ষের সমস্ত দুঃখের মূল। আমি কিন্তু এর বিপরীতটাই সত্য বলে মনে করি।... ভারতীয়রা তাদের অতীত যত বেশি পর্যালোচনা করবে, ভবিষ্যৎ ততই গৌরবময় হয়ে উঠবে; এবং যে-কেউ এই অতীত গৌরবকে মানুষের কাছে তুলে ধরবে, সে-ই দেশের পরম উপকার করবে। আমাদের পূর্ব রীতিনীতিগুলোর যে ন্যায়সঙ্গত পরিণতি হওয়া উচিত ছিল, তা হতে দেওয়া হয়নি। তাই আজ এই অবস্থা। ভারতে যে-কোনও সংস্কার বা উন্নতির চেষ্টা করা হোক, প্রথমত ধর্মের উন্নতি প্রয়োজন। ভারতকে সামাজিক বা রাজনীতিক ভাবে প্লাবিত করার আগে প্রথমে আধ্যাত্মিক ভাবে প্লাবিত করো।

প্রশ্ন: তবে কি কেবলমাত্র ধর্মের পথে থাকলেই উত্তরণ সম্ভব?

স্বামীজী: অবশ্যই; তবে কী জানো – ভারতের মতো দেশে প্রথমে অন্নের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর ধর্ম। খালি পেটে ধর্ম হয় না, আমাদের আচার্যদেব বলতেন।

প্রশ্ন: বহির্বিশ্বের কাছে presentable হওয়ার জন্য বাহ্য সভ্যতা কতটা আবশ্যক?

স্বামীজী: শুধু বহির্বিশ্বের কাছে কেন? ভারতের নিজের জন্যও বাহ্য সভ্যতা আবশ্যক। শুধু তাই নয় – প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুর ব্যবহারও আবশ্যক, যাতে গরিব লোকের জন্য নতুন নতুন কাজের সৃষ্টি হয়। অন্ন! অন্ন! যে ভগবান এখানে আমাকে অন্ন দিতে পারেন না, তিনি যে আমাকে স্বর্গে অনন্ত সুখে রাখবেন একথা আমি বিশ্বাস করি না। তাই, জনকল্যাণে ব্রতী না হয়ে ঘন্টা নাড়া আমার কাছে ধর্ম নয়। ভারতকে ওঠাতে হবে, গরিবদের খাওয়াতে হবে, শিক্ষার বিস্তার করতে হবে আর পৌরোহিত্যের পাপ দূর করতে হবে।... প্রাচীন ধর্ম থেকে এই পৌরোহিত্যের অত্যাচার ও অনাচার ছেঁটে ফেলো দেখবে এই ধর্মই জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম। আমার কথা বুঝতে পারছ তো? ভারতের ধর্ম নিয়ে সমাজকে ইউরোপের সমাজের মতো করতে পার? আমার বিশ্বাস, এইটি কাজে পরিণত করা খুব সম্ভব আর এ হবেই হবে।

প্রশ্ন: ইউরোপে নারীদের সম্মানজনক অবস্থান দেখুন, আর এ দেশে এখনও দেখুন। নারী-জাগরণ নামেই হচ্ছে। এখনও মহিলারা অপদস্থ হচ্ছেন প্রতি পদে। কীভাবে আসবে ইউরোপের সমাজ?

স্বামীজী: যথার্থ বলেছো। মেয়েদের আগে সম্মান দিতে হবে, mass-কে জাগাতে হবে; তবে তো দেশের কল্যাণ – ভারতের কল্যাণ। যে-দেশে, যে-জাতে মেয়েদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, সে-দেশ, সে-জাত কখনও বড় হতে পারেনি, কস্মিনকালে পারবেও না।

প্রশ্ন: Mass-কে জাগানোর কথা আপনি বলছেন। কীরকম পদ্ধতিতে তাদের জাগিয়ে তোলা সম্ভব?

স্বামীজী: আমাদের নিম্নশ্রেণীর জন্য কর্তব্য কেবল তাদের শিক্ষা দেওয়া ও তাদের হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিত্বকে জাগিয়ে তোলা।... তাদের ভাল ভাল ভাব দিতে হবে। তাদের চোখ খুলে দিতে হবে যাতে তারা জানতে পারে জগতে কোথায় কী হচ্ছে, তারা নিজেদের উদ্ধার নিজেরাই করবে। প্রতিটি জাতি, প্রতিটি নরনারীকে নিজের উদ্ধার নিজেকেই সাধন করতে হয়। তাদের কয়েকটি উঁচু ভাব দিয়ে দাও – সেইটুকু সাহায্যই তাদের দরকার। অবশিষ্ট যা কিছু, তা এর ফল হিসেবে আপনিই আসবে। 

প্রশ্ন: মানে আমাদের কাজ পুরো পথ-প্রদর্শন নয়?

স্বামীজী: আমাদের কাজ কেবল রাসায়নিক পদার্থগুলিকে একত্র করে দেওয়া-তারপর প্রাকৃতিক নিয়মেই সেগুলি দানা বাঁধবে। আমাদের কর্তব্য তাদের মাথায় কতগুলো ভাব ঢুকিয়ে দেওয়া, বাকি যা কিছু তারা নিজেরাই করে নেবে। ভারতে এই কাজটি করা বিশেষ দরকার। সমাজ-সংস্কারের জন্যও প্রথম কর্তব্য হল জনসাধারণকে শিক্ষিত করা। এই শিক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।

প্রশ্ন: অর্থাৎ, শিক্ষাদানের মধ্যেও তাদের পরনির্ভর করে তোলার কোনো প্রচেষ্টা থাকবে না বলছেন?

স্বামীজী: জনসাধারণকে যদি আত্মনির্ভরশীল হতে শেখানো না যায়, তবে জগতের সমগ্র ঐশ্বর্য ভারতের একটা ক্ষুদ্র গ্রামের পক্ষেও পর্যাপ্ত হবে না। মানুষ খালি হাত পাততেই শিখবে, অর্জন করতে শিখবে না আর কখনও। তার মূল্যও বুঝবে না। আমাদের কাজ হওয়া উচিত প্রধানত শিক্ষাদান চরিত্র এবং বুদ্ধিবৃত্তির উৎকর্ষসাধনের জন্য শিক্ষাবিস্তার।

প্রশ্ন: যদি খুব সংক্ষেপে বলতে হয়, আমাদের দেশের উন্নতির অপরিহার্য পথ কোনটি আপনার কাছে?

স্বামীজী: আদান-প্রদানই প্রকৃতির নিয়ম, ভারতকে যদি আবার উঠতে হয়, তবে তাকে নিজের ঐশ্বর্য-ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দিয়ে পৃথিবীর সব জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং বিনিময়ে অপরে যা কিছু দেয়, তাই গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। সম্প্রসারণই জীবন সঙ্কীর্ণতাই মৃত্যু, প্রেমই জীবন-দ্বেষই মৃত্যু। আমরা যেদিন থেকে অপর জাতিগুলোকে ঘৃণা করতে আরম্ভ করলাম, সেদিন থেকে আমাদের ধ্বংস আরম্ভ হল, আর যতদিন না আমরা আবার সম্প্রসারণশীল হচ্ছি, ততদিন কিছুই আমাদের বিনাশ আটকে রাখতে পারবে না। অতএব আমাদের পৃথিবীর সব জাতির সঙ্গে মিশতে হবে।

প্রশ্ন: ভারতের উপর বৈদেশিক প্রভাবও নেহাত কম নয়। এখনকার প্রজন্ম অনেকসময়ই প্রায় অন্ধভাবে বিদেশের সবকিছুকে গ্রহণ করছে। এর পরিণতি কী হতে চলেছে?

স্বামীজী: আমাদেরকে আমাদের প্রকৃতি অনুযায়ী উন্নতির চেষ্টা করতে হবে। বৈদেশিক সংস্থাগুলি জোর করে আমাদের যে প্রণালীতে চালানোর চেষ্টা করছে, সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা বৃথা। আমি অন্যান্য জাতির সামাজিক প্রথার নিন্দা করছি না। তাদের পক্ষে সেগুলো ভাল হলেও আমাদের পক্ষে নয়। একইভাবে আমাদের সমাজের পক্ষে যা ভালো, তাদের পক্ষে তা বিষের মতোও হতে পারে। প্রথমে এটাই বুঝতে হবে। তাদের বর্তমান সমাজ-ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে ভিন্ন ধরনের বিজ্ঞান, ঐতিহ্য এবং পদ্ধতি অনুযায়ী, আমাদের পেছনে আবার আর এক ধরনের ঐতিহ্য এবং হাজার হাজার বছরের 'কর্ম' রয়েছে। 

প্রশ্ন: ভারতীয় রাজনীতিতে যুব-রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেখান থেকেই ভবিষ্যতের দেশনায়কেরা উঠে আসেন। সেইসব যুবক রাজনীতিবিদদের জন্য আপনি কী বলবেন?

স্বামীজী: আজকের দিনে রাজনীতি বলতে যা বোঝায়, আমি সে সব বুঝি না। আমি বুঝি মানুষকে ভালোবাসা, মানুষের জন্য ভাবা, কাজ করা। এগুলোকে মোড়ক বানিয়ে তার আড়ালে নিজস্বার্থসিদ্ধি আর যাই হোক, রাজনীতি নয়। দেশ গড়বার পথিকৃৎদের প্রতি আমার এটুকুই বলার – প্রেমিক হও। যে-জাতি অতীতকালে আমাদের জন্য এত বড় বড় কাজ করেছে, সেই জাতিকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসো। ভারতের জন্য কাজ করার আগে ভারতকে জানো ভালোভাবে। আর কিছুরই আবশ্যক নেই, আবশ্যক শুধু প্রেম, সরলতা ও সহিষ্ণুতা। জীবনের অর্থ বিস্তার; বিস্তার আর প্রেম একই কথা। সুতরাং প্রেমই জীবন, প্রেমই জীবনের একমাত্র গতিনিয়ামক। স্বার্থপরতাই মৃত্যু, জীবন থাকতেও তা মৃত্যু, আর দেহাবসানেও এই স্বার্থপরতাই প্রকৃত মৃত্যুস্বরূপ।...শতকরা নব্বইজন নরপশুই মৃত, প্রেততুল্য। 

প্রশ্ন: কিন্তু কেবল প্রেমে কি আবেগতাড়িত করে দেওয়ার প্রবণতা থাকে না?

স্বামীজী: কার্যপ্রণালী নিয়ে তো আগেও আমরা কথা বললাম। কিন্তু প্রেমহীন কেউ সেই কার্যপ্রণালী অবলম্বন করলে কী হয়, সে কি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? যার হৃদয়ে প্রেম নেই, সে মৃত ছাড়া আর কী? দরিদ্র, অজ্ঞ ও নিপীড়িত মানুষের জন্য কাজ করারও আগে তাদের ব্যথা তোমরা প্রাণে প্রাণে অনুভব করো। সেই অনুভবের বেদনায় তোমাদের হৃদয় রুদ্ধ হোক, মস্তিষ্ক ঘুরতে থাকুক, তোমাদের পাগল হয়ে যাবার উপক্রম হোক। তখন গিয়ে ভগবানের পাদপদ্মে তোমাদের অন্তরের বেদনা জানাও। তবেই তাঁর কাছ থেকে শক্তি ও সাহায্য আসবে-অদম্য উৎসাহ, অনন্ত শক্তি আসবে। 

প্রশ্ন: কিন্তু এই অনুভব করা তো খুব subjective ব্যাপার, সময়সাপেক্ষও। সমাজের অধঃপতন আটকানোর জন্য কি যথেষ্ট দেরী হয়ে যায় নি এরই মধ্যে?

স্বামীজী: যখন চতুর্দিকে অন্ধকার বই আর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না, তখনও বলছি – এগিয়ে যাও। একটু আলো দেখা গেলেও বলছি – এগিয়ে যাও। অনুভব করা, যন্ত্রণা পাওয়া, সবই তোমার এগোনোর অঙ্গ। ভয় পেও না। উপরে তারকাখচিত অনন্ত আকাশমণ্ডলের দিকে সভয় দৃষ্টিতে চেয়ে মনে কোরো না তা তোমাকে পিষে ফেলবে। অপেক্ষা করো, দেখবে-অল্পক্ষণের মধ্যেই দেখবে, সবকিছু তোমার পদতলে।

প্রশ্ন: একজনের সামাজিক অবস্থান দেশের কাজ করার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

স্বামীজী: একটুও নয়। টাকায় কিছুই হয় না, নামেও হয় না, যশেও হয় না, বিদ্যায়ও কিছু হয় না, ভালবাসায় সব হয় – চরিত্রই বাধা-বিঘ্নের বজ্রদৃঢ় প্রাচীরের মধ্যে দিয়ে পথ করে নিতে পারে।

প্রশ্ন: আপনি যে ভারত জাতির কথা বলেছেন, তার পুনরুত্থানের জন্য কী কী অপরিহার্য? এখন তো শুধু ভেদাভেদ আর দলাদলিই দেখি। ভারত জাতি বলে কিছু কি আর সম্ভব?

স্বামীজী: বড় হতে গেলে কোনও জাতির বা মানুষের তিনটি জিনিসের দরকার:
(১) সাধুতার শক্তিতে গভীর বিশ্বাস।
(২) হিংসা ও সন্দিগ্ধভাবের একান্ত অভাব।
(৩) যারা ভাল হতে কিংবা ভাল কাজ করতে চেষ্টা করছে, তাদের সাহায্য করা।
কাজের সামান্য আরম্ভ দেখে ভয় পেয়ো না, কাজ সামান্য থেকেই বড় হয়। সাহস অবলম্বন করো। নেতা হতে যেয়ো না, সেবা করো। নেতৃত্বের এই পাশব প্রবৃত্তি জীবনসমুদ্রে অনেক বড় বড় জাহাজ ডুবিয়েছে। এ-বিষয়ে বিশেষ সতর্ক হও অর্থাৎ মৃত্যুকে পর্যন্ত তুচ্ছ করে নিঃস্বার্থ হও এবং কাজ করো। কে কী বললো তোমায়, ভাবতে যেও না। কুকুরের 'ঘেউ ঘেউ' ডাকে ভয় পেয়ো না – এমনকী আকাশ থেকে প্রবল বজ্রাঘাত হলেও ভয় পেয়ো না। উঠে দাঁড়াও। ওঠো, কাজ করো।

প্রশ্ন: আজকের দিনের পরিভাষায় জিজ্ঞেস করি – funding, না human resource – কোনটা বেশি প্রয়োজন আমাদের?

স্বামীজী: জগতের ইতিহাসে কি কখনও এরূপ দেখা গেছে যে, কেবল ধনীদের দিয়ে কোনও বিরাট বড়, জনহিতকর কাজ হয়েছে? হৃদয় ও মস্তিষ্ক দিয়েই চিরকাল যা কিছু বড় কাজ হয়েছে। টাকা দিয়ে নয়। টাকা-ফাকা সব আসবে। আগে মানুষ চাই। মানুষ সব করে, টাকায় কী করতে পারে? জগতের সমস্ত ধনসম্পদের চেয়ে 'মানুষ' হচ্ছে বেশি মূল্যবান।

প্রশ্ন: আপনার এই বাণী আজকের দিনে কত মানুষ যে ভুল বুঝবেন, তার ইয়ত্তা নেই। ভয় হয়, চতুর্দিকে আপনার কাঁড়ি কাঁড়ি misinterpretation! লোকজন সেইসব পড়েই আপনার সম্বন্ধে ধারণা তৈরি করে বসে থাকে।

স্বামীজী: আমার সম্বন্ধে কে কী ধারণা তৈরি করলো, আমার কিচ্ছু আসে যায় না তাতে। যে আমার কাছে প্রশ্ন নিয়ে আসবে, আমি তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলি, আজও। অন্যে যাই ভাবুক আর করুক, কখনও তোমার পবিত্রতা, নৈতিকতা আর সর্বোচ্চ আদর্শকে নীচু কোরো না। গণ্যমান্য, উচ্চপদস্থ অথবা ধনীর উপর কোনও ভরসা রেখো না। তাদের মধ্যে জীবনীশক্তি নেই-তারা একরকম মৃতকল্প বললেই হয়। ভরসা তোমাদের উপর-যারা পদমর্যাদাহীন, দরিদ্র কিন্তু বিশ্বাসী।...

প্রশ্ন: আপনার এই ত্যাগের অগ্নিমন্ত্র আজকের পিছুটানের যুগে মেনে চলা বড় কঠিন।

স্বামীজী: তোমাকে বাছতে হবে – সেবা করতে চাও, না পিছুটানে বাঁচতে চাও। যদি প্রথমটা চাও, পেছনে তাকিও না। কে পড়ল দেখতে যেও না। এগিয়ে যাও, সম্মুখে, সম্মুখে। এইভাবেই আমরা অগ্রসর হব-একজন পড়বে, আর একজন তার স্থান দখল করবে। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি, আমার ভেতরে যে আগুন জ্বলছে, তা তোমাদের ভেতর জ্বলে উঠুক, তোমাদের মন মুখ এক হোক। ভাবের ঘরে চুরি যেন একদম না থাকে। তোমরা যেন জগতের যুদ্ধক্ষেত্রে বীরের মতো মরতে পারো – এই সব সময় বিবেকানন্দের প্রার্থনা।
ভারতে প্রাচীনকালে ঢের ভাল জিনিস ছিল, খারাপ জিনিসও ছিল। ভালগুলি রাখতে হবে, কিন্তু আসছে যে ভারত – Future India, Ancient India-র চেয়ে অনেক বড় হবে। ভারত আবার উঠবে, জড়ের শক্তিতে নয়, চৈতন্যের শক্তিতে। বিনাশের বিজয়পতাকা নিয়ে নয়; শান্তি ও প্রেমের পতাকা নিয়ে।


গ্রন্থঋণ – 'সবার স্বামীজী' (স্বামী লোকেশ্বরানন্দ)

Comments

  1. চমৎকার। সময়োপযোগী।

    ReplyDelete
  2. Replies
    1. আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জেনো।

      Delete
  3. দারুন! এত প্রাঞ্জল, মনে হয় দুই-একদিনের মধ্যেই নেয়া হয়েছে। প্রশ্ন গুলো খুবই আকর্ষক, উত্তরও। অনেক ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. অসংখ্য ধন্যবাদ। 🙏

      Delete

Post a Comment