সব খবর পাবে কেমন করে?
আমাদের যুগটা নাকি ইনফর্মেশন টেকনোলজির। সময় আর শ্রম দিয়ে কিছু জানার যে অভ্যাস, তা আর নেই বললেই চলে। এখন কোনও একটা ভাবে জানার আগ্রহটুকু type করে দিলে, মুখের সামনে থরে-বিথরে নানা তথ্য সাজিয়ে দেয় গুগল।
সে-সব হাইপারলিঙ্কের অল্প কয়েকটিই গভীর, বেশিটাই অন্ধের হস্তীদর্শন। অর্থাৎ, কেউ হাতির কানটুকু ধরে বলছে এইটাই হাতি। কেউ লেজ ধরে বলছে, এইটাই। কেউ শুঁড় ধরে বলছে, এইটা।
আমরা সব বিষয়ে কথা বলতে চাই, মতামত দিতে চাই। অমুক জিনিসটা নিয়ে সে কথা বললো, আমিই বা বাদ যাই কেন? তাই, দায়সারা করে চোখ বুলিয়ে নেওয়া ইন্টারনেট-লব্ধ জ্ঞান আওড়ে আমরা opinion পর্যন্ত তৈরি করে ফেলি, এবং এইভাবে নিজের 'আমিত্ব'টাকে বেশ নাদুস-নুদুস করে তুলি। নিজে যা জানি, তা-ই ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে অন্যকে জানাই। তারা জানায় আরও কতজনকে। বিনা খাটনিতে যেটুকু পাওয়া যায়, সেটাই লাভ। তাই দিনশেষে তৈরি হয় একটা সমাজ যার মূল সুর, 'অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী, কিন্তু চলতা হ্যায়!'
এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকে শ্রীরামকৃষ্ণের একটিমাত্র কথা – সে পাড়াতেই গেলে না – সব খবর পাবে কেমন করে?
কোনও এক ভক্ত নিতান্তই দায়সারা প্রশ্ন করেছিল – এই যে এত সাকার, নিরাকার, অমুক, তমুক শুনি, আসলে ঈশ্বর কোনটা?
শর্টকাটে ঈশ্বরকে জেনে নেওয়ার সাধ হয়েছিল তার। শ্রীরামকৃষ্ণ উত্তর দিলে, সেটাই সে তারপর একে তাকে হয়তো বলে বেড়াতে চাইত।
শ্রীরামকৃষ্ণ উত্তর দিলেন বটে, কিন্তু সে উত্তর ঈশ্বরের স্বরূপ বললো না। ঈশ্বরকে জানতে গেলে তার পিছনে যে সাধনা, যে শ্রম প্রয়োজন, সেটুকু বললো।
সাঁতার কাটতে চাইলে জলে নামো। খাবি খাও বারকয়েক। কিন্তু জলে থাকো। একবার ভাসতে শিখে গেলে ওই জলই তোমায় বাকিটাও জানিয়ে দেবে – কোন জলে সাঁতার কেমন করে কাটতে হয়। পুকুরপাড়ে বসে জলে হাত বুলিয়ে সাঁতার হয়?
আমরা আজ ঈশ্বর মানি না মানি, তাঁকে খুঁজি না খুঁজি, আমরা যা কিছু জানতে চাই, এবং জানাতে চাই, তার জন্য 'সে পাড়ায়' যাওয়া প্রয়োজন। খবরের সবটা বাইরে আসে না।
তাই, শোনা-কথায় জানা বিষয়ে মুখ না খোলাই শ্রেয়। অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান, সে যত সামান্যই হোক, শোনা-কথার চেয়ে বড়। সব নিয়ে যে আমাদের কথা বলতে হবে এমন তো নয়; কিন্তু যা নিয়ে বলতে চাই, তাকে চেখে দেখা দরকার।
খুব ভালো লাগলো পড়ে, সহজ সাধনা শেখায় এমন লেখা, সময়ে অসময়ে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। আরো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
ReplyDeleteঠাকুরের কথা এরকমই। প্রতি পদেই শক্তিদায়ী।
Delete