রোল মডেল

"জীবনে কার মতো হতে চাও?" – এই প্রশ্নটি কেউ করলেই আমাদের মাথায় হাজারখান নাম চলে আসে, কাকে ছেড়ে কার কথা বলবো বুঝতে পারি না। রোল মডেলে পৃথিবী ছয়লাপ। 

কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণ কাকে রোল মডেল করতে বলছেন, জানা আছে? পিঁপড়ে। 
কেন? 
কারণ, চিনিতে বালিতে মিশে থাকলে পিঁপড়ে বালি ফেলে চিনি খায়।

আশেপাশে তাকালে চিনিতে-বালিতে মিশে আছে সর্বত্র। চিনির দানা বালির কণার চেয়ে ভারী, তাই সে একটু নিচের দিকে, আড়ালে চলে গেছে; উপর-উপর প্রায় সবটাই বালি।

বালি কে চায়? কেউই না। আমরা, আশেপাশের সকলে – প্রত্যেকে খুঁজছি চিনি। বালির স্তরটি ঘেঁটে ঘেঁটেই অস্থির হয়ে পড়ছি; এক দানা চিনি হাতে আসে তো তার আগে-পরে এক মুঠো বালি।

কিন্তু এই চিনি-বালির খেলায় শর্ত একটাই – একটু তলিয়ে খুঁজতে হবে। 

যদি সেভাবে খুঁজতে পারি, বিস্তীর্ণ দারিদ্র্যের মধ্যেও পাওয়া যাবে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে চলা একবিন্দু আশার আলো, ব্যর্থতার চোরাবালির তলায় ঠিক খুঁজে পাওয়া যাবে সফল হওয়ার একরোখা সংকল্প। অপ্রেম, হানাহানি, নিষ্ঠুরতার পাথুরে জমি অনেকটা পেরোলে দেখা যাবে, এক গৌতম বুদ্ধ আছেন এসবের শেষে – জীবের দুঃখে তিনি কাঁদছেন, জীবকে তিনি প্রাণাধিক ভালোবাসছেন। 
কিন্তু খেলার শর্ত ওইটাই – একটু তলিয়ে খুঁজতে হবে। চিনি পেতে গেলে, বালি ঘাঁটতেই হবে। অমৃতের সন্ধানে মৃত্যু পেরোতে হবে। সাফল্য খুঁজতে ব্যর্থতার গভীরে যেতে হবে। মহাকরুণার ছায়া তখনই ছায়া বলে বোধ হবে, যখন অপ্রেমের পথ পেরিয়ে আমরা তার কাছে আসবো।

শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন – হাঁসের ঠোঁটে টক রস থাকে, সে দিয়ে জল থেকে দুধকে আলাদা করে নিতে পারে ওরা। 
আমাদের সেই টক রসটি কী? ধৈর্য্য, বিশ্বাস, একাগ্রতা। 

আমরা সবসময় বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন করি – চিনি খুঁজতে কেন এত বালি ঘাঁটতে হবে? অথচ, এভাবে কেন দেখি না – 'বালিতে খুঁজলে ঠিক চিনি পাওয়া যাবে'? একবার দেখাই যাক না এভাবে। যতই বালি আসুক, লক্ষ্য যদি হয় চিনি, চিন্তা কী? জীবনে পিঁপড়ের মতো থাকলেই হলো।

Comments

Post a Comment