শক্তি-পীঠ
শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীশ্রী মা, স্বামী বিবেকানন্দের, বা তাঁদের সমতুল আরও কারো কথা যখন এখানে লিখি, আসলে লিখতে চাই মানুষের কথা, মানুষের শক্তির কথা, অদম্য উদ্যমের কথা, ভয়কে জয় করার কথা। লিখতে চাই অসংখ্য মানুষের অশ্রু, হাসি, স্বপ্নে গড়ে ওঠা সেই ভারতবর্ষের কথা যে আদিকাল থেকে আমাদের অভয় দিয়েছে – অভীঃ, নির্ভয় হও; আমাদের মন্ত্র দিয়েছে – চরৈবেতি, এগিয়ে চলো।
তাই, আজকের এই লেখা সেই অর্থে শ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীশ্রী মা অথবা বিবেকানন্দ – এঁদের কাউকে নিয়ে সরাসরি না হলেও, উপরে উল্লিখিত তিনজন, ও আরও অনেকের যাপিত আদর্শ ও মূল্যবোধের কথা। সর্বোপরি, ভারতবর্ষের কথা, ভারতবাসীর কথা। এই আনন্দের মুহূর্তে এই অনুভূতিটুকু আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ইচ্ছে হলো –
সতেরো দিন। দীর্ঘ সতেরো দিনব্যাপী ভয়, আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা, অশিক্ষা, অসংবেদনশীলতা, নীরবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতে অন্ধকার সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৪১ জন মানুষ।
ঘরের লোকের উষ্ণ ভালোবাসার স্পর্শ আবার। আগামীকাল সূর্য উঠলে আবার সেই আলো এসে পড়বে তাঁদের মুখে-চোখে। গাছের পাতাকে বাতাসে দুলতে দেখবেন আবার ওঁরা। পাখির ডাক আবার শুনবেন। পৃথিবীর, প্রকৃতির ঐশ্বর্য চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে – ওঁরা আবার দেখবেন। তারপর, আবার কাজে ফিরবেন।
ওঁদের এই জয়, এই ফিরে আসা অভাবনীয়। বিলাসিতাহীন, আড়ম্বরহীন, খালি পায়ে চলা, রক্তমাংসের ভারতবর্ষের ৪১টি শক্তি-পীঠ ওঁরা। এই ভারতবর্ষই বারবার বড় বড় আঘাত পায়, আর ছোট ছোট স্বপ্ন নিয়ে বারবার ফিরে আসে। অন্ধকার থেকে বেরিয়ে তাই আবারও একগাল হাসি অনেকের মুখে। কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন দু হপ্তারও বেশি আগে শেষবার দেখা পৃথিবীর দিকে।
এর চাইতে উজ্জ্বল আলো সম্ভব?
শুভ দীপাবলি, আজ, আমাদের সব্বার। ❤️
Comments
Post a Comment