আনন্দেরই সাগর হতে...

পরিচিত গল্প। তিন বন্ধু, হেঁটে চলেছে পথে। পথের ধারে উঁচু একটা দেয়াল – ওপার থেকে ভেসে আসছে আনন্দের কলকাকলি। তিনজনের খুব উৎসাহ, ওদিকে কী আছে দেখতে হবে। অনেক কষ্টে মই জোগাড় করা গেল একটা। প্রথমজন উঠলো। ওপারে কী দেখলো কে জানে, মুখ আনন্দে উদ্ভাসিত। বাকি দুজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ঝাঁপ দিল অন্য পারে। দ্বিতীয়জন উঠলো; আগেরজনের মতোই ঝাঁপ দিল অন্য পারে। তৃতীয় জন উঠে দেখলো, ও পারে সে কী আনন্দ! ঝাঁপ দিতে যাবে সে-ও, এমন সময় তার মনে হলো – আচ্ছা, আমি যদি ঝাঁপ দিই, তাহলে আর কেউ তো জানতে পারবে না এত আনন্দের খোঁজ খবর! তাদের জানাবে কে? অনেক কষ্টে নিজেকে আটকালো সে। নেমে এল মই থেকে, এপারেই। তারপর ছুটলো লোকালয়ের দিকে, "শোনো, শোনো, সন্ধান পেয়েছি আনন্দধামের। ওই দূরের দেয়ালের ঐপারে – কোনোভাবে একবার পৌঁছতে পারলে, সে যে কী সুখ! এসো, সব্বাই এসো।"

শ্রীরামকৃষ্ণের বলা গল্পটি শেষ হয়ে যায় এখানে। তারপর ভাবি, সেই তৃতীয় বন্ধুর কথায় কত না লোক গেল – কেউ ঝাঁপ দিল ওই পারে, কেউ এ পার থেকেই কোলাহল শুনে কাটিয়ে দিল, কেউ কিছুটা উঠে হাল ছেড়ে দিল না হয়। তারপর প্রশ্ন আসে মনে – আচ্ছা, সেই তৃতীয় বন্ধুটি শেষ অব্দি আর কোনোদিন ঝাঁপ দিতে পেরেছিল সেই আনন্দধামে? ঝাঁপ দিতে পারবে সে কোনোদিন?

সম্ভবত না। আনন্দের সন্ধান দিতে যার আসা, সে আনন্দে নির্দ্বিধায় বাস করতে পারবে না কোনোদিন। তার মন বারবার চলে যাবে আহত, পীড়িত, দুঃখময় এই জগতের দিকে। আনন্দকুম্ভের দিকে সে জগৎকে আহ্বান করবে প্রাণপণ, "এসো, সব্বাই এসো!" সে এই আশঙ্কায় ভরা, হীন, দরিদ্র পৃথিবীকে ভালোবাসে বড়। তাই, কেবল "ভালোবাসি" বলে বসে থাকতে পারে না। খালি ডাকে – এসো, এসো; আনন্দের সাগর এখানে – আমি জেনেছি।

আনন্দকে জেনে সে হৃদয়ে বহন করে তাকে। ঝাঁপ দেওয়া তার আর হয়ে ওঠে না চিরতরে।

Comments

  1. ওই তৃতীয় বন্ধুই যে পান্থজনের সখা...♥️

    ReplyDelete

Post a Comment