চৌঠা জুলাই
প্রথম ছবির কথাগুলি আজ থেকে ১২৬ বছর ৫ মাস আগে দূরের, দক্ষিণ ভারতের এক শহরে বলা হয়েছিল। শেষ কয়েক শতাব্দী-যাবৎ ভারতীয়রা, বিশেষত 'হিন্দু ধর্মাবলম্বী'রা তাঁদের আচরণে কেমন, সে নিয়ে কিছু কথার শেষে শ্লেষাত্মক, ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতেই বক্তা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে ১০০ বছর পর আমরা কোথায় পৌঁছবো।
দ্বিতীয় ছবির কথাগুলি বলা তারই কিছুদিন পর, মাদ্রাজে, তাঁর কিংবদন্তি ভাষণ 'My Plan of Campaign' / 'আমার সমরনীতি'তে। এই অংশে বক্তা 'evil'-কে মোকাবিলা করার জন্য যে মানসিকতার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন, তা বলছেন। তাঁর মতে, ইষ্ট ও অনিষ্ট – এই দুয়ে মিলেই জগৎ। ইষ্টের নিরঙ্কুশ প্রতিষ্ঠা, বা অনিষ্টের পূর্ণ বিনাশ –এর কোনোটিই খুব সম্ভবপর নয়। ফলে, ব্যক্তিগত ভালো-খারাপের ধারণাকে 'জনহিতার্থে' নৈর্ব্যক্তিক বানিয়ে, তা লাগু করতে চরমপন্থা, মৌলবাদের আশ্রয় নিলে তার কী পরিণতি অবশ্যম্ভাবী, সে কথাও এখানে বলা আছে।
এই দুটি ছবিতে যা বলা, তার বাইরে এটুকুই বলার যে –
১) উপরোক্ত মতের সম্পূর্ণ/আংশিক বিরুদ্ধমত অতি অবশ্যই কারো থাকতে পারে। সেই অনুযায়ী তাঁর যুক্তি ও কর্মপ্রণালীও থাকবে।
২) প্রেক্ষিত, উদ্দেশ্য ও অধিকারীভেদে বিবেকানন্দ তাঁর অন্যান্য বক্তৃতায় এমনও কিছু কথা বলেছেন, এই কথাগুলির বিচারে যা আমাদের চোখে আপাতভাবে স্ববিরোধী। কখনও তাঁর সুর এর চেয়ে নরম, কখনও এর চেয়ে আরও গরম। তাই, এর ভিন্নতর পাঠ থাকাও অত্যন্ত স্বাভাবিক।
কিন্তু কথা হলো, শুরুর সেই ১২৬ বছর ৫ মাস পেরিয়ে গেছে। উপরে ছবির কথাগুলি জ্বলজ্বল করছে। আজ তাঁর প্রয়াণদিন। সেদিন তিনি যে ঠেস-দেওয়া ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা শুনে হয়তো বা হাসির রোল উঠেছিল। আর আজ? এখনও হাসি পাচ্ছে? হয়তো পাচ্ছে। হাসিরও তো প্রকারভেদ আছে।
তাই, বিভিন্ন গ্রূপে প্রতিদিন তাঁকে নিয়ে প্রতিটি পোস্টে "রাতুল চরণে শতকোটি প্রণাম জয়তু স্বামীজী good morning" না লিখে আমাদের পাঠের প্রয়োজন।
Comments
Post a Comment