স্রোত

দশ বছর আগের কথা ভাবি। নরেন্দ্রপুর – ঠাকুর, মা, স্বামীজীর ভাবে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমি তখন সেখানে গত ছ' বছর ধরে; আরও তিন বছর থাকবো। অথচ, এত বড় সময়ে একবারের জন্যও সাধ হলো না তাঁদেরকে জানার, তাঁদের কথা পড়ার। প্রণাম পর্যন্ত করিনি একবারও, মনন তো দূরস্থান। বরং, তখন যা-ই করছি, সবই তাঁদের ভাববিরুদ্ধ। 

আর আজকের কথা ভাবি। সেই পরিবেশ থেকে কত দূরে আজ – চারিদিকে, যেখানে, যতটুকু দেখছি, বেশিটাই তাঁদের ভাববিরুদ্ধ। অথচ, কী সাঙ্ঘাতিক আঁকড়ে আছি এখন তাঁদের! প্রতিদিন তাঁদের এক একটি ভাবের, উচ্চারণের, ব্যবহারের প্রেমে পড়ছি একেবারে পাগলের মতো। এমনই, যে ভাবলে এক একসময় ঘরবাড়ি অব্দি তুচ্ছ লাগে।

মনে হয়, দশ বছর আগে এমন প্রেম এলে জীবনটাই অন্যরকম হতো হয়তো। হয়তো সন্ন্যাসী হয়ে যেতাম। তারপর মনে হয়, তখন না এসে যে দশ বছর পর এল – সে'ও তো তাঁরাই দিলেন, তাই এল। ঘরের মাঝে তাঁদের ভালোবেসে কিছু কাজ করা নিশ্চয়ই বাকি থেকে গেছে আমার। এই ম্যাচে, এই পজিশনেই খেলবো। পরের ম্যাচে, পরের কোনও এক ম্যাচে সন্ন্যাসী হতে চাই। 

৫.১.২০২৩

Comments

  1. ছবিটা খুব ভালো লেগেছে ..

    ReplyDelete

Post a Comment